আরিফুল ইসলাম,ব্যুরো চীফ-ময়মনসিংহ:: গফরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত নাম মো. ফখরুল হাসান। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে একজন ত্যাগী ও জনমুখী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বর্তমানে তিনি গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গফরগাঁও পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। মো. ফখরুল হাসান মরহুম আলহাজ্ব মো. বদর উদ্দিন ও মোছা. হাছনা হেনার সন্তান। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। সুশিক্ষিত, সামাজিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন পারিবারিক পরিবেশে তাঁর বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবার থেকে পাওয়া নৈতিক শিক্ষা পরবর্তীতে তাঁকে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও রাজনীতির পথে এগিয়ে দেয়। তার শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় ঢাকার তেজগাঁও নাখালপাড়া প্রাইমারি স্কুলে। পরবর্তীতে তিনি গফরগাঁও ইসলামিয়া হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন এবং গফরগাঁও সরকারি কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মেধাবী, উদ্যমী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি সহপাঠীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ছাত্রজীবনেই তিনি উপলব্ধি করেন যে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শন, দেশপ্রেম ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। তিনি বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার এবং উন্নয়নমূলক রাষ্ট্র গঠনে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ১৯৯২-১৯৯৩ শিক্ষাবর্ষে গফরগাঁও সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি নেতৃত্বের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ছাত্ররাজনীতির পর তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মূলধারায় যুক্ত হন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দলের দুঃসময়ে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি হামলা ও মামলার মুখোমুখি হন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে ফ্রান্সে প্রবাস জীবন বেছে নিতে হয়। তবে ভৌগোলিক দূরত্ব তাঁর রাজনৈতিক আদর্শকে বিচ্যুত করতে পারেনি। ফ্রান্সে অবস্থানকালে তিনি প্রবাসী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রবাসে থেকেও তিনি দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করা, বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০১ সালে দেশে ফিরে আসার পর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা জানান। দেশে ফিরে তিনি পুনরায় তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আত্মনিয়োগ করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অসংখ্য নেতা-কর্মীর আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। দলের দুঃসময়ে তিনি কখনো পিছপা হননি। আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রণী। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। শিক্ষা বিস্তার, মসজিদ-মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে তিনি গফরগাঁও পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। তিনি একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভা গঠনের স্বপ্ন দেখেন। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে উন্নত সড়ক ব্যবস্থা, আধুনিক ড্রেনেজ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ। মেয়র পদপ্রার্থী মো. ফখরুল হাসান মনে করেন, জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়া। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থনই একজন নেতার সবচেয়ে বড় শক্তি। সব মিলিয়ে, ত্যাগ, সংগ্রাম, আদর্শ ও নেতৃত্বের দীর্ঘ পথচলায় মো. ফখরুল হাসান গফরগাঁওয়ের রাজনীতিতে একটি পরিচিত ও আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন।