• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
Headline
বর্তমান সরকার তিস্তা ব্যারেজ ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করবে– গাজীপুরে প্রধানমন্ত্রী সাবেক ভিসির দুর্নীতি আড়াল করতে নতুন ভিসির কাজে বাধা: ছাত্রদল ভাষা সৈনিক আব্দুল হামিদ খাঁনের একমাত্র ছেলে পারভেজ খাঁন আর নেই ডুয়েটের নতুন ভিসির যোগদান: পুলিশের সাথে শিবিরের সংঘর্ষ:আহত ১৫ ডুয়েটে শিবিরের সাথে পুলিশ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ ইউএনও,পুলিশ সাংবাদিকসহ আহত ১০ ডুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল : বিভিন্ন সংগঠনের অভিনন্দন গাজীপুরে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত বিজ কৃষি কর্মসূচির মাধ্যমে উপকারভোগীর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ বিতরণ কাপাসিয়ায় ৫ খুনের প্রধান আসামীর আত্নহত্যার ধারণা পুলিশের ‘সবাই মিলে দেব কর, স্বনির্ভর হবে গাজীপুর’: গাসিকে মাসব্যাপী কর মেলা শুরু

বর্তমান সরকার তিস্তা ব্যারেজ ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করবে– গাজীপুরে প্রধানমন্ত্রী

হাফিজুর রহমান,গাজীপুর / ১২ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

হাফিজুর রহমান,গাজীপুর:: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকার গঠন করার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ফারাক্কা বাঁধের সমালোচনা করেছেন। সেই সাথে তিনি প্রস্তাবিত তিস্তা ব্যারেজের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করতে গিয়ে শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমরা ছোটবেলায় দেখেছি, পদ্মা নদীর এপার থেকে ওপার দেখা যায় না। তিনি বলেন, এখনো দেখা যায় না। তবে তখন পানি ছিল, এখন পানি শূন্য।

এসময় পদ্মা ব্যারেজের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যারেজটি আমরা এজন্য করতে চাচ্ছি যে, বর্ষায় বলুন, শুস্ক মৌসুমে বলুন, যখনি বলুন, আমাদের দেশের মানুষ, কৃষকই হোক বা যে কোন মানুষই হোক, তারা যেন সব সময় পানি পায়।

তিনি ফারাক্কা বাঁধের সমালোচনা করে বলেন, আরেকটি ডেঞ্জারাস ব্যাপার হচ্ছে, এই ফারাক্কা বাঁধ হওয়ার কারণে যেটি হচ্ছে, ধীরে ধীরে কিন্তু পানির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। নদীতে পানি কম থাকায়, দক্ষিণের সমুদ্রের নোনা পানি আমাদের ভূখণ্ডে ঢুকছে। ফলে সুন্দরবন সহ দক্ষিণাঞ্চলে অনেক সমস্যা হচ্ছে। নোনতা পানি ভিতরে চলে আসার কারণে বিভিন্ন গাছপালা নষ্ট হচ্ছে, বিভিন্ন প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমরা সে কৃষকটাকে রক্ষা করতে চাই, এজন্য আমাদের ব্যারেজ নির্মাণ করতে হবে। ব্যারেজের মধ্যে আমরা পানি ধরে রাখবো, যখন বাড়তি পানি বর্ষার মৌসুমে যে বাড়তি পানিটা আসে, সেই পানি আমরা ধরে রাখতে পারব, যাতে করে প্রয়োজনের সময় আমরা আমাদের মানুষের জন্য পানি ব্যবহার করতে পারি। সেই পানিটিকে আমরা আরো যাবতীয় কাজে ব্যবহার করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু এটাই নয়। তিস্তা নদী যেটা আছে। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য এ নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলতে পারে। তবে আপনাদের সামনে আমি পরিষ্কার করে একটি কথা বলে যেতে চাই, ইনশাআল্লাহ এই বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারেজের কাজে হাত দেবে, ইনশাল্লাহ তিস্তা ব্যারেজের কাজেও হাত দিবে। যারা বিভিন্ন বড় বড় কথা বলছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলে যেতে চাই, এই যে আজকে এখানে দুর্যোগ মন্ত্রী বসে আছেন, এই লোকটার নেতৃত্বে তিস্তায় বিএনপি কর্মসূচি পালন করেছে। যা বাংলাদেশে অন্য কোন রাজনৈতিক দল করেনি। তারা হয়তো বড় বড় কথা বলেছে, গরম গরম কথা বলেছে, কিন্তু কাজ যদি কেউ করে থাকে, ডেলিভারি যদি করে থাকে, পরিস্থিতি যদি কেউ তৈরি করে থাকে, সেটা বিএনপি করেছে। ইনশাল্লাহ বিএনপি সেটা করবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা গত ২০ বছরে যে পরিমাণ পানি নিচে থেকে টেনে উপরে তুলেছে আমাদের ব্যবহার করেছি। এই পরিমাণ পানি যদি আজকে থেকে বর্ষা মৌসুমে যে পরিমাণ পানি আসে, সেই পরিমাণ পানি যদি ছড়িয়েও দেই, তারপরও আরো ২০ বছর লাগবে সেই পরিমাণ পানির শূন্যস্থান পূরণ হতে অর্থাৎ রিচার্জ হতে। ২০ বছরে আমাদের জনসংখ্যা আরো বাড়বে। খাদ্য উৎপাদন আমাদের আরো বাড়াতে হবে। এ কারণে ভূগোল বস্ত্র পানি ব্যবহার করা আমাদের জন্য বিপদ হতে পারে। এটিও কিন্তু দুর্যোগের সাথে সম্পর্কিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কারণে যেভাবেই হোক আমাদের খাল খনন কর্মসূচি শুরু করতে হবে। আপনারা নিশ্চয়ই পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছেন, রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মা নদীর সাথে আমরা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করব। পদ্মা ব্যারেজ এইজন্য আমরা তৈরি করব, সীমান্তের ওপারে তারা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানি তারা তুলে নিচ্ছে। কিন্তু আমাদের কাছে যে পানি আসছে শুস্ক সময় আমরা অনেক কম পাচ্ছি। যার ফলে নদীতে পানির স্রোত কমে যাওয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। আস্তে আস্তে নদীর তীরবর্তী এলাকা গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ আমরা থামাতে পারবো না। কিন্তু আমরা যেটা করতে পারি, আমরা দুর্যোগ সম্পর্কে মানুষকে ওয়াকিবহাল করতে পারি। আমরা যেটা করতে পারি, আমরা মানুষকে সচেতন করতে পারি। আজকে এই অনুষ্ঠানের একটা শপথ হওয়া উচিত, মানুষকে আমরা শুধু সচেতন করব না, আমরা নিজেরাও সচেতন হব। কারণ যেহেতু আমরা দুর্যোগকে থামাতে পারবো না, আসুন দুর্যোগ কোনটি হলে, কিভাবে মানুষ এবং সম্পদকে রক্ষা করতে পারি, কিভাবে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারি, নিজেকে কিভাবে রক্ষা করতে পারি, আরেকজনকে কিভাবে রক্ষা করতে পারি, কিভাবে সম্পদ রক্ষা করতে পারি সেটিই হোক আমাদের আজকের অনুষ্ঠানের শপথ।

প্রধানমন্ত্রী দেশের আর্থিক অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা একটি গরিব দেশ। আমাদের সম্পদ কম। আমরা যদি সম্পদকে রক্ষা করতে পারি, আমরা যদি আমাদের সম্পত্তির সঠিকভাবে দেশ এবং মানুষের জন্য কাজে ব্যবহার করতে পারি, ধীরে ধীরে আমরা অন্য একটি উন্নত দেশের মতন গড়ে উঠতে পারব। কিন্তু সম্পদ যদি নষ্ট হয়ে যায়, আমাদের অবহেলা কারণে, আমাদের অজ্ঞতার কারণে যদি সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে মানসিক কষ্টই বাড়বে। মানুষই দূর্ভোগের শিকার হবে। আসুন আমরা শপথ গ্রহণ করি, আমরা নিজেরা সচেতন হব অন্যকে সচেতন করব এবং পরিবেশ রক্ষা করব। আমরা খাল খনন করি, আমরা বৃক্ষরোপণ করি, আমরা পানি নষ্ট আমরা কম করি। যেভাবেই হোক প্রকৃতি যেভাবে ঠিক থাকতে পারবে, প্রকৃতিকে যত কম ডিস্টার্ব করা যায়, আমরা সেই কাছে ইনশাআল্লাহ্ করব।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন ও সচিব সাইদুর রহমান খান। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, গাজীপুর-৪ আসনের (জামায়াত) সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইয়ুবী।

প্রধানমন্ত্রী এর আগে ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সাতাইশ চৌরাস্তার ধরপাড়া এলাকায় প্রায় ৮ একর জমির ওপর এই ইনস্টিটিউট নির্মিত হবে। এখানে প্রশাসনিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আবাসিক ভবনও থাকবে। এই ইনস্টিটিউট দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা