• রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
Headline
প্রায় পাঁচ দশকের রাজনীতি, এবার গফরগাঁও পৌর মেয়র পদে আলোচনায় বিএনপি নেতা মোঃ ফজলুল হক ত্রিশালে ভার্চুয়ালি ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উদ্বোধন গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণে চাঞ্চল্য: অতিরিক্ত পিপির ওপর ছুরিকাঘাত ও হত্যাচেষ্টা গাজীপুর প্রেসক্লাব ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে রাজপথে সাংবাদিকরা ত্রিশালে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ফাতেমার পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান বিএনপি নেতা রিজভীর কাপড়ের বেড়া ও ফিসারির পানিই ভরসা: ষাটোর্ধ দুই বোনের পাশে বিএনপি নেতা রিজভী ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫০টি পরিবারের পাশে আর্থিক সহায়তা নিয়ে গাজীপুর জেলা পরিষদ ৩৫০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গাজীপুর জেলা পরিষদের ত্রিশাল পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৩৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

প্রায় পাঁচ দশকের রাজনীতি, এবার গফরগাঁও পৌর মেয়র পদে আলোচনায় বিএনপি নেতা মোঃ ফজলুল হক

আরিফুল ইসলাম,ব্যুরো চীফ-ময়মনসিংহ / ৩০ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

আরিফুল ইসলাম,ব্যুরো চীফ-ময়মনসিংহ:: ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌর এলাকার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত ও আলোচিত মুখ মোঃ ফজলুল হক। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌর, জেলা এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে প্রায় পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা, হামলা, কারাবরণ, নির্যাতন, ভাঙচুর ও আর্থিক ক্ষতির মতো নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও দলীয় আদর্শ থেকে কখনো সরে যাননি বলে দাবি তাঁর। আসন্ন গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর নাম এখন ব্যাপক আলোচনায়। ১৯৬০ সালের ১ জানুয়ারি গফরগাঁও পৌরসভার জন্মেজয় এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মোঃ ফজলুল হক। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল আলী। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ১৯৭৮ সালে গফরগাঁও উপজেলা জাগো ছাত্রদলের সদস্য হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ১৯৭৯ সালে তিনি গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালে গফরগাঁও যুব কমপ্লেক্সের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬-৮৭ সালে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, ১৯৯৩-৯৪ সালে উপজেলা যুবদলের নেতা ও ময়মনসিংহ জেলা যুবদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯-২০০০ সালে গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে গফরগাঁও পৌর বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ২০০৯ সালের ১০ নভেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে গফরগাঁও পৌর বিএনপির সভাপতি এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে পুনরায় গফরগাঁও পৌর বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে পথ চলার কথা তুলে ধরে মোঃ ফজলুল হক দাবি করেন, ২০০৯ সালের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১২টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে সাতটি মামলায় তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন এবং বর্তমানে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাঁর দাবি, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় তিনি ও তাঁর ছোট ভাই মোঃ নজরুল ইসলাম ৫৭ দিন কারাবরণ করেন। ১৯৯৭ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গফরগাঁও সফর উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলে হামলার শিকার হয়ে আহত হন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাঁর পারিবারিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়, যাতে সে সময় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালে তাঁর পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয় এবং একটি রাজনৈতিক মামলায় ১৫ দিন কারাবরণ করতে হয়। ২০১৯ সালে আরও একটি মামলায় তিন দিন কারাগারে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁর পারিবারিক মালিকানাধীন মম মেডিকেল হল, নজরুল ট্রেডার্স, নূর টাইলস অ্যান্ড স্যানিটারি এবং আল বারাকাহ টাইলস অ্যান্ড স্যানিটারি—এই চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মোট সাতবার বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে পরিবারকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি করেন। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে পুলিশের নিক্ষিপ্ত টিয়ারশেলে আহত হন। পরে ২ নভেম্বর তাঁর বাড়িতে আবারও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁর দাবি। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রয়েছেন মোঃ ফজলুল হক। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছেন, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। আসন্ন গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে মোঃ ফজলুল হক বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো পদ-পদবির জন্য রাজনীতি করি না। আমার কাছে দলই সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং দলীয় হাইকমান্ড আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়, তাহলে নেতাকর্মী ও পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব পৌরসভা গড়তে কাজ করব। আর যদি দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে তাঁর বিজয়ের জন্য একজন কর্মী হিসেবে মাঠে কাজ করব। বিএনপির সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে মোঃ ফজলুল হক আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং দীর্ঘদিন ধরে দলকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। রাজনীতির পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও শৈশব থেকেই গভীর অনুরাগ রয়েছে মোঃ ফজলুল হকের। স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৭৫ সালের পর থেকেই তিনি এলাকার তরুণদের নিয়ে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নিতেন এবং সবাইকে মাঠমুখী হতে উৎসাহিত করতেন। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মাদকমুক্ত রাখতে তিনি সবসময় উৎসাহ দিয়ে আসছেন। শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, স্থানীয় ক্রীড়া কার্যক্রমের একজন পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তিনি পরিচিত। বয়সের এই পর্যায়েও খেলাধুলার প্রতি তাঁর আগ্রহ কমেনি। সুযোগ পেলেই স্থানীয় বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উপস্থিত হয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন এবং ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সহযোগিতা করেন বলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী জানান। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, ২০১১ সালের গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন মোঃ ফজলুল হক। তবে সে নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। এরপরও দলীয় কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকে সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে নেতাকর্মীরা জানান। স্থানীয়দের মতে, মোঃ ফজলুল হক একজন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত, নীতিবান ও সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা করা এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর সততা, দায়িত্বশীলতা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি একজন পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। এ কারণে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ তাঁকে ভালোবাসেন ও শ্রদ্ধা করেন বলে তারা জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা