• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪১ অপরাহ্ন
Headline
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি: গাজীপুরে শুরু হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের জরিপ, প্রস্তুত ১৭৯ তথ্য সংগ্রহকারী গাজীপুর সদরে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত গুণী শিক্ষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেলেন গাকৃবির অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছেত মিয়া অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৯ পরিবারের পাশে ত্রাণ নিয়ে স্থানীয় এমপি ও উপজেলা প্রশাসন গাকৃবিতে ২৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ নবীন শিক্ষক পাচ্ছেন ৯০ দিনের প্রশিক্ষণ ত্রিশালের রায়েরগ্রামে রহস্যজনক মৃত্যু, ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার উপজেলা প্রেসক্লাব ত্রিশাল সভাপতি সাংবাদিক সারোয়ার জাহান জুয়েল অসুস্থ, দোয়া কামনা গাজীপুরে অপহৃত তরুণ উদ্ধার: অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে গাজীপুর মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ময়মনসিংহের ত্রিশালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেফতার

গাজীপুর জেলা পরিষদ ফরেনসিক অডিট আতঙ্কে তটস্থ বদলি ৯ কর্মচারী, নেপথ্যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট

জনতার নিঃশ্বাস প্রতিবেদন / ৩৫২ Time View
Update : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

জনতার নিঃশ্বাস প্রতিবেদন:: গাজীপুর জেলা পরিষদ নিয়ে সাম্প্রতিক অপপ্রচারের প্রেক্ষিতে ‘ফরেনসিক অডিট’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তপক্ষ। এমন খবর চাউর হওয়ার পর অডিট আতঙ্কে তটস্থ হয়ে পড়েছেন দীর্ঘ বছর ধরে একই স্থানে জেঁকে বসা ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী। অনিয়ম ও দুর্নীতির লাগাম টানতে অতি সম্প্রতি উক্ত ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হলেও তারা আদেশ অমান্য করে গাজীপুরেই অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বদলিকৃতরা সরকারি নিয়ম ভেঙে সর্বনিম্ন ৬ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩৪ বছর পর্যন্ত একই কর্মস্থলে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ এই সময়ে তারা পরিষদে একটি শক্তিশালী ‘বলয়’ বা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। অভিযোগ আছে, এই সিন্ডিকেটের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে গত কয়েক বছরে ৪ জন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে বিদায় নিতে হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের পৃথক আদেশে যাদের বদলি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, আশরাফ হোসেন (প্রশাসনিক কর্মকর্তা): প্রায় ৩৪ বছর একই স্থানে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে কাপাসিয়া, গাজীপুর ও উত্তরায় বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বদলির বিরুদ্ধে তিনি আদালতে রিট করেছেন বলে জানা গেছে। প্লাবন আলী (সাঁটলিপিকার): ১৭ বছর ধরে কর্মরত। তার বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। রেজওয়ানুল হক (সার্ভেয়ার): জমি লিজ ও বন্দোবস্তে আর্থিক সুবিধার অভিযোগ। রফিকুল ইসলাম ও মনির হোসেন (প্রকৌশলী): উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের সুবিধা দিয়ে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ।

এছাড়া মেশিন অপারেটর খোকন মিয়া, নিম্নমান সহকারী হারুন অর রশিদ, অফিস সহায়ক সোনিয়া আক্তার এবং ড্রাইভার মাহমুদুল হাসানকেও বিভিন্ন অভিযোগে বদলি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমান সিইও নজরুল ইসলাম যোগদানের পর প্রশাসনিক কড়াকড়ি শুরু করলে সিন্ডিকেটটি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জাতীয় একটি দৈনিকে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশেরও অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কাপাসিয়ার টুঁকে এলাকার পরিত্যক্ত ডাকবাংলো লিজ নিয়ে তোলা অভিযোগটি জেলা পরিষদ সূত্র নাকচ করে দিয়েছে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী জানান, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন কোনো লিজ দেওয়া হয়নি। অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। বেদখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে বদলি হওয়া ব্যক্তিরা কর্মস্থল না ছাড়ায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে—জেলা পরিষদে এমন কী মধু আছে যে কারণে তারা উচ্চপর্যায়ের আদেশকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন? ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের টেন্ডার বাণিজ্য, জমি লিজের অনিয়ম ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা