নিজস্ব প্রতিবেদক:: ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন রিজভী। তিনি সাপ্তাহিক জনতার নিঃশ্বাসের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে এসব বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি স্বৈরাচারী সরকারের পতন ছিল না, বরং তা ছিল দেশের শোষিত, বঞ্ছিত এবং অধিকারহারা মানুষের মুক্তির এক মহাসংগ্রাম। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একনায়কতন্ত্র, ভোট ডাকাতি, গুম, খুন এবং সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের ছাত্র-জনতা যে অভূতপূর্ব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তার চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখেছি এই গণঅভ্যুত্থানে। এই ঐতিহাসিক দিবসে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেইসব বীর শহীদদের, যাঁদের তাজা রক্ত আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ একটি স্বাধীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছি। গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি আন্দোলন চলাকালীন আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী এবং নির্যাতিত সকল বীর ছাত্র-জনতার প্রতি।গাজীপুরের মাটি সব সময়ই অন্যায় আর জুলুমের বিরুদ্ধে উর্বর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। রাজপথের একজন কর্মী হিসেবে আমি দেখেছি, কীভাবে ভাওয়ালগড় ইউনিয়নসহ গাজীপুর সদর উপজেলার প্রতিটি অলিগলি থেকে সাধারণ মানুষ স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে শরিক হয়েছিল। তৎকালীন ফ্যাসিবাদের পেটুয়া বাহিনী ও পুলিশের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে আমাদের তরুণরা যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ছাত্র-জনতার সম্মিলিত স্রোত গণভবনের দেয়াল ভেঙে দেওয়ার পর, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত হয়েছে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জনবান্ধব সরকার। আজ অত্যন্ত আনন্দের সাথে লক্ষ্য করছি যে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অত্যন্ত স্বল্প সময়ে দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করে তিনি সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছেন। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আজ বহুগুণ উজ্জ্বল হয়েছে, যার প্রমাণ মেলে আন্তর্জাতিক মহলে বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মাধ্যমে। কৃষি ঋণ, ফ্যামিলি কার্ডের মতো যুগান্তকারী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং তরুণদের জন্য আধুনিক কর্মসংস্থানের যে উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন, তা সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের এক নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
আজকের এই ঐতিহাসিক দিবসে আমাদের শুধু বিজয় উদযাপন করলেই চলবে না, বরং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা আত্মাহুতি দিয়েছে, তা বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার এবং স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার পুনরুদ্ধার হয়েছে।আমি বিশ্বাস করি, দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও শোষিত ভাওয়ালগড় ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত, এবং মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা শহীদদের স্বপ্নেরই একটি অংশ। ভাওয়ালগড়ের সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুখী নীতির সাথে একাত্ম হয়ে আমরা এমন এক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না, কোনো চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি থাকবে না। তরুণেরা পাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সাধারণ মানুষ ফিরে পাবে তাদের প্রকৃত নাগরিক অধিকার ও আইনি নিরাপত্তা।আসুন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমরা জননেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করি এবং বর্তমান সরকারের পাশে থেকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করি। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এই হোক আজকের দিনে আমাদের দীপ্ত অঙ্গীকার।