নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:: শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো ধরনের সহিংসতা, ভাঙচুর ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না—এমন কঠোর বার্তা দিয়ে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাজীপুর সদরের ভবানীপুর বাজারসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন রিজভীর নেতৃত্বে সহস্রাধিক নেতাকর্মী মাঠে নামেন। শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতেই তাঁদের এই সতর্ক অবস্থান।
বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেন, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের চলমান যৌক্তিক অসন্তোষকে পুঁজি করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে অর্থ ও জনবল যোগান দিচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের ক্যাডাররা। শ্রমিক পোষাকে বহিরাগতরা শিল্পাঞ্চলে ঢুকে নৈরাজ্য সৃষ্টি, কারখানা ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধের চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ ওঠে।
মাঠে অবস্থানকালে জয়নাল আবেদীন রিজভী উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, “শ্রমিকরা আমাদের ভাই-বোন, আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। শ্রমিকদের যেকোনো ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আমাদের দল বিএনপি এবং বর্তমান সরকার সব সময়ই সহানুভূতিশীল ও সোচ্চার। আপনারা জানেন, ইতিমধ্যেই শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ শ্রমিকদের সিংহভাগই শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিতে চান। কিন্তু চক্রান্ত থামেনি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “জনবিচ্ছিন্ন ও পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ এখন শেষ অস্ত্র হিসেবে শিল্প খাতকে বেছে নিয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে এবং জাতীয় জীবনে অস্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তারা পর্দার আড়াল থেকে অর্থ ঢালছে, ক্যাডারদের উসকে দিচ্ছে। শ্রমিকদের ওপর ভর করে পিছনের দরজা দিয়ে ফায়দা লোটার এই অপচেষ্টা গাজীপুরের মাটিতে সফল হতে দেওয়া হবে না।”
রিজভী তাঁর বক্তব্যে সাধারণ শ্রমিকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আমরা শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনের বিপক্ষে নই, তবে আন্দোলনের নামে যারা জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট করবে, কারখানায় আগুন দেবে কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে, তাদের চিহ্নিত করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। জিয়াউর রহমানের সৈনিকেরা জনগণকে সাথে নিয়ে এই সব দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রাজপথেই কঠোরভাবে রুখে দেবে, ইনশাল্লাহ। কোনো ধরনের গুজোবে কান না দিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সাধারণ মানুষের পাশে আছি।”
সকাল থেকেই ভবানীপুর বাজার ও তৎসংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের এই অবস্থানের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে এবং এলাকা জুড়ে বাড়তি সতর্কতামূলক টহল ব্যাহত না হয়ে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকে। অবস্থান কর্মসূচিতে ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।