• শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
Headline
কাপাসিয়ায় ৫ খুনের প্রধান আসামীর আত্নহত্যার ধারণা পুলিশের ‘সবাই মিলে দেব কর, স্বনির্ভর হবে গাজীপুর’: গাসিকে মাসব্যাপী কর মেলা শুরু গাজীপুর জেলা পরিষদ ফরেনসিক অডিট আতঙ্কে তটস্থ বদলি ৯ কর্মচারী, নেপথ্যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট ত্রিশালে জাতীয় কবি নজরুল জন্মজয়ন্তী ১২৭তম প্রস্ততি উপলক্ষে সভা অনুষ্ঠিত ডিইউজের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সভা, সমবায় পুনর্গঠনের দাবি গাসিকের সাবেক প্রশাসকের বিরুদ্ধে করা রিট খারিজ রিটকারীকে জরিমানা গাজীপুরে গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা, ট্রাকে আগুন ভিন্নধর্মী গ্রাবজো রেস্টুরেন্টের উদ্বোধন ত্রিশালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা ‘সাংবাদিকদের অধিকার কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে’

কাপাসিয়ায় ৫ খুনের প্রধান আসামীর আত্নহত্যার ধারণা পুলিশের

হাফিজুর রহমান,গাজীপুর / ৫০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

হাফিজুর রহমান,গাজীপুর::গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা (৪০) অপরাধ করার পর পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, ঘাতক ফোরকান মোল্লা পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক। গত ৮ মে দিবাগত রাতে কাপাসিয়ার রাউতকোনা পূর্বপাড়া গ্রামে নিজের ভাড়া বাসায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি। নিহতরা হলেন, ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), তার তিন কন্যা মীম (১৬), মারিয়া (০৮), ফারিয়া (০২) এবং শ্যালক রসূল মোল্লা (২২)।

তদন্তে জানা গেছে, গত ৮ মে শ্যালককে গার্মেন্টস চাকরি দেওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে গাজীপুরে নিয়ে আসেন ফোরকান। এরপর রাতের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে ছুরি দিয়ে চারজনের গলা কেটে ও সবার ছোট কন্যাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন।

পুলিশ সুপার আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের পর গাজীপুর জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তিনটি চৌকস দল তদন্তে নামে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরিসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যোবায়েরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গত ১১ মে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মেহেরপুর সদর এলাকা থেকে একটি ট্রাকের চালকের সহকারীর কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

তিনি আরো জানান, তদন্তে জানা যায়, ১১ মে সকাল আনুমানিক ০৬:৫০ ঘটিকায় পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে রেলিংয়ের পাশে ফোনটি পড়ে থাকতে দেখে এক ট্রাক হেল্পার সেটি তুলে নেন।

পুলিশ সুপার বলেন, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১১ মে সকাল ০৬:৪২ ঘটিকায় সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার থেকে সেতুর মাঝামাঝি স্থানে নামেন। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর তিনি রেলিং টপকিয়ে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন।

তিনি আরো বলেন, সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ নিহত শারমিনের পিতা ও মামলার বাদী শাহাদৎ,ফোরকানের ভাইসহ অন্যান্য ঘনিষ্ট আত্মীয়দের দেখানো হয়। কিন্তু তারা কেউই পদ্মা নদীতে ঝাপ দেওয়া ব্যক্তি ফোরকান কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে, তারা ঝাপ দেওয়া ব্যক্তিকে ফোরকানের মতই দেখতে বলে জানিয়েছে।

তবে, নদীতে ঝাপ দেওয়ার স্থান ও মোবাইল উদ্ধারের স্থান একই হওয়ায় তদন্তকারী দল ধারণা করছে যে, ঝাঁপ দেওয়া ওই ব্যক্তিই ছিলেন ঘাতক ফোরকান।

মামলার তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত একটি দায়িত্বশীল সূত্র নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, ঘটনার পর কাপাসিয়ায় ফোরকানের মোবাইলের লাস্ট কলের সময় ছিল শনিবার ভোর সোয়া ৪টায়। ঘটনার পর ফোরকান তার বড় ভাই জব্বারকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভয়েস ম্যাসেজ পাঠায়। তদন্তকারীরা সে ভয়েস ম্যাসেজটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

সূত্র জানায়, সেই ভয়েস ম্যাসেজে ফোরকানকে বলতে শুনা যায়, ‘আমি স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালকসহ সবাইকে মেরে ফেলেছি। আমাকে তোমরা আর খোঁচ না। আমাকে আর পাবে না।’

সূত্র আরো জানায়, হত্যাকানণ্ড ঘটানোর পর ফোরকান কাপাসিয়া থেকে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া নিয়ে ঢাকার মালিবাগ এলাকায় যায়। সেখান থেকে একটি সিএনজি ভাড়া নিয়ে ফোরকান ভোরে ঢাকার মুক্তাঙ্গণ এলাকায় যায়। সেখান থেকে ফোরকানের আত্মীয় মারা গেছে, তিনি পদ্মা সেতু এলাকায় যাবেন বলে ৬ হাজার টাকায় একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে পদ্মা সেতু এলাকায় গিয়ে সেতুর মাঝখানে প্রাইভেটকার থেকে নেমে যান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপারের আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফফাক উজ্জামান, আবুল খায়ের, আমিরুল ইসলাম, তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো: যোবায়ের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা