হাফিজুর রহমান,গাজীপুর:: গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়ির উঠানের ওপর জোরপূর্বক বিছানো ইট না তুলেই একটি সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। কাজের মোট বরাদ্দের ১০ শতাংশ কমিশন নিয়ে প্রকল্প সভাপতি ও স্থানীয়দের দ্বন্দ্বের জেরে কাজটি বন্ধ করা হয়। এতে বাড়ির জমির নারী মালিকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের আজমতপুর মধ্যপাড়া কাজুম আলী হাজীবাড়ি এলাকায় কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া মূল সড়ক থেকে একটি সংযোগ কাঁচা রাস্তায় ইট বিছানোর প্রকল্প নেয়া হয়। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও)।
প্রকল্পের সভাপতি হলেন জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও উপজেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন খান। কাগজে-কলমে ঠিকাদারের নাম ভিন্ন হলেও বাস্তবে ইউপি সদস্য নিজেই কাজটি করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প অনুযায়ী রাস্তাটি ২৫৪ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও মেম্বার ফারুক হোসেন খান এবং উপজেলা পিআইও আবুল কালাম আজাদ একই এলাকার দেলোয়ার হোসেন খান ও রাকিব হোসেন খানের সাথে যোগসাজশ করে ফারজানা হক রিনি ও ফাহমিদা হক রিন্তু ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়ির উঠানের ওপর দিয়ে জোরপূর্বক আরও অতিরিক্ত ১২৫ ফুট রাস্তা বাড়ান। এতে বাড়িটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং জমির মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ ঘটনায় ফাহমিদা হক লিখিত অভিযোগ করলে কালীগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে ঘটনার সত্যতা পান। তখন তিনি বাড়ির মাঝখান থেকে ইট তুলে নেয়ার নির্দেশ দেন এবং সীমানা ঘেঁষে ফাহমিদা হকের জমি থেকে ৫ ফুট ও অন্য পাশ থেকে ৩ ফুটসহ মোট ৮ ফুট জমি নিয়ে রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ দেন। এর জন্য তিনি অতিরিক্ত আরও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় মোট ব্যয়ের ১০ শতাংশ কমিশন এবং অতিরিক্ত ২ লাখ টাকার সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে সীমানা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও অভিযুক্তরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউপি মেম্বার ও পিআইও’র সাথে পাশের জমির মালিকদের কমিশন দ্বন্দ্বের কারণে অতিরিক্ত বরাদ্দসহ প্রকল্পের কাজ স্থগিত করে দেয়া হলেও রিনি ও রিন্তু বাড়ির উঠান থেকে ইট তুলে নেয়া হয়নি। ভুক্তভোগী ফারজানা হক রিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়ির উঠানের ওপর বিছানো ইট তুলে নেয়ার জন্য ইউএনও, ইউপি মেম্বার ও পিআইওকে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু তারা এখন আর বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ইট না সরানোয় আমাদের পরিবার চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।" এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, "আমি ইট বিছাইনি, ঠিকাদার কাজ করেছে।" তবে ঠিকাদারের নাম জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।অন্যদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম কামরুল ইসলাম বলেন, "আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বাড়ির মাঝখান থেকে ইট সরিয়ে দুই জমির মালিকের সীমানা ঘেঁষে রাস্তা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু পাশের জমির মালিকরা জমি না ছাড়ায় কাজটি করা সম্ভব হয়নি। এই কারণে অতিরিক্ত ২ লাখ টাকার বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।" এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে ইট বিছানোর অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।