নিজস্ব প্রতিবেদক:: ১৯৮১ সালে বিএনপির সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী,সাবেক মেয়র আলহাজ্ব অধ্যাপক এম এ মান্নানের হাত ধরে ছাত্র রাজনীতি শুরু করা সাহাব উদ্দিন নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এখনো নিঃস্বার্থভাবে রয়েছেন দলের পাশেই। এরই মধ্যে কতবার উত্থান-পতন দেখেছেন তিনি, হয়েছেন জুলুম নির্যাতন ও মামলার শিকার তারপরও দল ছেড়ে যাননি বিএনপির এই ত্যাগী নেতা। বরং দলের চরম দুঃসময়ে ২০১৬ সালে তিনি ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক থাকাকালীন বিপুল ভোটে এই ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতিক বিজয়ী হয়।
তিনি ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ভাওয়াল গড় ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেসময় দুটি জাতীয় নির্বাচন ২০১৪ ও ২০১৮ নির্বাচন বয়কটের ডাক আসলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার ও তার পুলিশ বাহিনীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে কর্মীদের নিয়ে নেমে পড়েন। সেসময় ব্যবসায়ীক ক্ষতির শিকার হলেও পিছপা হননি এই বিএনপি নেতা। শত দমন, নির্যাতনেও আদর্শ বিচ্যুত না হওয়া এই নেতাকেই আবার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের আহ্বায়ক হিসেবে দেখতে চান স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতার সাথে কথা বললে তারা জানান,সাহাব উদ্দিন ভাই শুধু দলের একজন নেতাই নন, এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রয়েছে তার। তিনি একজন স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি একজন উদার মনের ত্যাগী নেতা। বিগত ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে যাঁরা দলের হাল ধরেছেন ভাওয়ালগড়ে তিনি অন্যতম। তাঁর নেতৃত্বে আমরা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছি। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপির সংগঠন আরও গতিশীল ও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
তিনি ১৯৯১ সালে বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন সফলতার সাথেই। পরে তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার যুবদলের প্রচার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিএনপির এই ত্যাগী নেতা। এরপর তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার বিএনপির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং বৃহত্তর গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপি সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিএনপির সবচেয়ে দুঃসময় অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ভাওয়াল গড় ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা পতনে আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিন বলেন, পদ কেবলই ক্ষমতা নয় বরং দায়িত্ব। আমি চেষ্টা করেছি দল আমাকে ভরসা করে যে দায়িত্ব তুলে দিয়েছে আমি তা রক্ষা করার। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি আর ভবিষ্যতেও যাব না ইনশাল্লাহ। রাজনীতি আমার কাছে জনগণের খেদমত করার একটা মাধ্যম। তিনি আরো বলেন,কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক, গাজীপুর-৩ আসনের এমপি ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ভাইয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় রাজপথে থেকে কাধে কাধ মিলিয়ে ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ অতীতে যেমন কাজ করেছে ভবিষতেও করবে ইনশাল্লাহ।